১৮ দলের ডাকা অবরোধের দ্বিতীয় দিনে গতকাল সারা দেশ ছিল অচল। রাজধানী ঢাকায় ও দেশের বিভিন্ন স্থানে অবরোধ সমর্থকদের ওপর পুলিশ ও ক্ষমতাসীন দলের ক্যাডারদের হামলা, গুলিবর্ষণ ও টিয়ার গ্যাস শেল নিক্ষেপ ও রাবারবুলেট ছোড়ার ঘটনা ঘটেছে। হামলা, সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার সময় ১৮ দলীয় জোটের অনেক নেতাকর্মী আহত হন। অবরোধকারীরা দেশের বিভিন্ন স্থানে সড়ক-মহাসড়ক ও রেলপথ অবরোধ, গাড়ি ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে। এতে যোগাযোগব্যবস্থা অচল হয়ে পড়ে। কয়েকটি স্থানে অজ্ঞাত ব্যক্তিরা জেলা ও উপজেলা নির্বাচন অফিসে অগ্নিসংযোগ করে। কয়েকটি স্থানে বিএনপি অফিস ভাঙচুর করে ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীরা। পুলিশ বিভিন্ন স্থানে বিএনপি, জামায়াত, যুবদল, ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের বেশ কিছু নেতাকর্মীকে আটক করেছে। এ দিকে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভীসহ আটক নেতাকর্মীদের মুক্তির দাবিতে দেশের বিভিন্ন স্থানে হরতাল পালিত হয়েছে। কয়েকটি স্থানে হরতালের ডাক দেয়া হয়েছে। রাজধানীতে সংঘর্ষ গুলি অগ্নিসংযোগ : সরকারি দলের অস্ত্র মহড়া আমাদের নিজস্ব প্রতিবেদক জানান, বিক্ষিপ্ত সংঘর্ষের মধ্য দিয়ে রাজধানীতে পালিত হয়েছে ১৮ দলীয় জোটের ডাকা ৭২ ঘণ্টা টানা অবরোধের দ্বিতীয় দিন। রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অবরোধকারীদের সাথে পুলিশ ও সরকার-সমর্থকদের ধাওয়াপাল্টাধাওয়া, গুলি, টিয়ার শেল ও ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। গতকালও মিরপুরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সামনে প্রকাশ্যে অস্ত্র উঁচিয়ে শ্রমিক লীগের ক্যাডাররা অবরোধকারীদের ওপর গুলিবর্ষণ করে। অবরোধের দ্বিতীয় দিনেও রাজধানীতে ছিল হরতালের আমেজ। রাজধানীর দোকানপাট বন্ধ ছিল, মার্কেট-বিপণিবিতান, বেসরকারি অফিস-সংস্থা, কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়সহ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর কাস-পরীক্ষা বন্ধ ছিল। ব্যাংক-বীমা খোলা থাকলেও লেনদেন হয়েছে খুবই কম। রাজধানীর পথঘাট ছিল রিকশা-ভ্যানের দখলে। অবরোধের কারণে রাজধানী থেকে দূরপাল্লার কোনো যানবাহন ছেড়ে যায়নি। নৌযানও চলাচল করেনি। দু-একটি ট্রেন চলাচল করতে দেখা যায়। অবরোধে রাজধানীর প্রবেশপথগুলো গতকালও বন্ধ ছিল। সদরঘাট ছিল পুরোপুরি ফাঁকা। বাস টার্মিনালগুলো ছিল যাত্রীশূন্য। নেতাকর্মীশূন্য বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয় গতকালও ছিল অবরুদ্ধ। গতকালও বিভিন্ন স্থানে অবরোধবিরোধী মিছিল করে সরকার- সমর্থকেরা। কোনো কোনো এলাকায় তারা আগ্নেয়াস্ত্র হাতে মহড়া দিয়েছে। গাবতলী : সকাল ১০টা ৫৫ মিনিটের সময় গাবতলী বাস টার্মিনালের পাশে আন্ডারপাসের ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে কে বা কারা তিনটি ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটায়। এ সময় সেখানে থাকা র্যাব-পুলিশের সাথে স্থানীয় যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা ছুটে আসেন। তারা মোটরসাইকেলে করে পুলিশের সামনে আগ্নেয়াস্ত্র বের করে ককটেল নিক্ষেপকারীদের খোঁজ করতে থাকে। পরে পুলিশ নেতাকর্মীদের চলে যেতে ইঙ্গিত দিলে তারা চলে যান। কিন্তু কিছু সময় পরপর তারা মোটরসাইকেল নিয়ে মহড়া দিতে থাকে। ধানমন্ডি : সকাল সাড়ে ১০টার দিকে রাজধানীর ধানমন্ডি সাত মসজিদ সড়কে মিছিল করে অবরোধকারীরা। এ সময় ১৫ নম্বর সড়কে মৈত্রী পরিবহনের একটি বাস ভাঙচুর করে আগুন ধরিয়ে দেয় অজ্ঞাত ব্যক্তিরা। যাত্রীরা জানান, ১৫ নম্বরে বাসটি পৌঁছলে কয়েকজন যুবক আগুন আগুন বলে চিৎকার করতে থাকে। এ সময় যাত্রীরা নেমে গেলেই বাসটিতে দাউ দাউ করে আগুন জ্বলতে শুরু করে। এ ঘটনায় কেউ হতাহত হয়নি। একই সময়ে ধানমন্ডির কাকলি হাইস্কুলের সামনে ইটিসিএল কোম্পানির একটি বাসে আগুন দেয় অবরোধকারীরা। পরে ফায়ার সার্ভিস সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। মহাখালী : রাজধানীর মহাখালীতে ককটেল বিস্ফোরণে ইঞ্জিনিয়ার মোখলেসুর রহমান শরীফ (৩৮) নামে এক ব্যক্তি আহত হয়েছেন। গতকাল রোববার দুপুরে মহাখালীর সরকারি তিতুমীর কলেজের পশ্চিম পাশে চারটি ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটে। এ সময় মোখলেসুর রহমান ওই রাস্তা দিয়ে হেঁটে যাচ্ছিলেন। একটি ককটেল তার মাথার বাম পাশে পড়ে বিস্ফোরিত হলে তিনি গুরুতর আহত হন। তাকে দ্রুত ঢাকা ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক। আহত মখলেসুর স্টারলিঙ্ক নামে একটি প্রতিষ্ঠানে প্রকৌশলী হিসেবে চাকরি করেন। নাটোর সংবাদদাতা জানান, নাটোর জেলা নির্বাচন অফিসে পেট্রল ঢেলে আগুন ও ককটেল মেরে অফিসের আসবাবপত্র, কম্পিউটার, ল্যাপটপ ও কাগজপত্র ভস্মীভূত করেছে অজ্ঞাত ব্যক্তিরা। শনিবার রাত ১০টার দিকে ঘটনার সময় সেখানে নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত চার পুলিশ সদস্য পাঁচ রাউন্ড গুলি করলেও এ ঘটনায় কেউ হতাহত হয়নি। জানা গেছে, নাটোর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়সংলগ্ন জেলা নির্বাচন অফিসের নিচতলায় রাত ১০টার দিকে পেছনের জানালা দিয়ে ভেতরে পেট্রল ঢেলে আগুন দিয়ে ও দুই-তিনটি ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। এ সময় সেখানে নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত চার পুলিশ সদস্য পাঁচ রাউন্ড গুলি করে। পরে খবর পেয়ে নাটোর ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা সেখানে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। আগুনে অফিসের নিচতলায় নাটোর সদর উপজেলা নির্বাচন অফিসারের কার্যালয় ও পাশের একটি করে আসবাবপত্র, চারটি কম্পিউটার, ল্যাপটপ ও কাগজপত্র ভস্মীভূত হয়। ঘটনার পরপরই নাটোরের জেলা প্রশাসক মো: জাফর উল্লাহ, পুলিশ সুপার ড. নাহিদ হোসেন ও জেলা নির্বাচন অফিসার দেলোয়ার হোসেন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। চাঁদপুর সংবাদদাতা জানান, অবরোধের দ্বিতীয় দিনে রোববার ভোরে চাঁদপুর শহরে একটি মালবাহী ট্রাকে আগুন দিয়েছে অবরোধকারীরা। এ সময় ট্রাকচালক দ্রুত ট্রাকটি স্থানীয় দমকল কর্মীদের অবহিত করে তাদের সহায়তায় আগুন নিভিয়ে ফেলে। ট্রাকে থাকা সব মালামাল পুড়ে গেছে। আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে শহরে বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। এ ছাড়া সকাল সাড়ে ৬টায় চাঁদপুর থেকে চট্টগ্রামগামী ‘মেঘনা এক্সপ্রেস’ শাহরাস্তি উপজেলার নাউড়ি এলাকায় অবরোধকারীরা রেললাইনের ফিসপ্লেট খুলে ফেলায় এক ঘণ্টা আটকা পড়ে। সকাল সাড়ে ৭টায় লাইন মেরামত শেষে ট্রেনটি চট্টগ্রামের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করে। রাজবাড়ী সংবাদদাতা জানান, অবরোধের দ্বিতীয় দিনে গতকাল জেলায় সর্বাত্মক অবরোধ পালিত হয়েছে। দৌলতদিয়া-রাজবাড়ী-খুলনা মহাসড়কের গোয়ালন্দ মোড়ে ভোর থেকে অবরোধকারীরা সড়কের ওপর বসে যান চলাচল বন্ধ করে দেয়। এ সময় গোয়ালন্দ মোড়ের সড়কদ্বীপে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন জেলা বিএনপির সহসভাপতি ও সুপ্রিম কোর্টের অ্যাডভোকেট মো: আসলাম মিয়া, সাধারণ সম্পাদক মো: হারুন-অর-রশীদ, আব্দুল খালেক ও শাহিন মিয়া। রাজবাড়ী-কুষ্টিয়া সড়কের পাংশা আজিজ সরদারের মোড়ে প্রায় ৩ কিলোমিটারজুড়ে গাছের গুঁড়ি ফেলে সড়ক অবরোধ করায় যানবাহন বেলা ১১টা পর্যন্ত বন্ধ ছিল। এ সময় জেলা বিএনপির নেতৃবৃন্দ ওই স্থানে সড়ক অবরোধ করে বিােভ সমাবেশ করেন। বিয়ানীবাজার (সিলেট) সংবাদদাতা জানান, সিলেটের বিয়ানীবাজারে নির্বাচন অফিসে আগুন দিয়েছে অবরোধকারীরা। গতকাল সকালে নির্বাচন অফিসে দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যদের ধাওয়া দিয়ে তাড়িয়ে অগ্নিসংযোগ করে তারা। আগুনে নির্বাচন অফিসের বৈদ্যুতিক মেইন সুইচ, কয়েকটি চেয়ারসহ কিছু আসবাবপত্র পুড়ে যায়। এ সময় উপজেলা কমপ্লেক্সে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। কর্তব্যে অবহেলার দায়ে তিন পুলিশ সদস্যকে তাৎক্ষণিক প্রত্যাহার করে নেয়া হয়। উপজেলা নির্বাচন অফিসার কামাল হোসেন এ ঘটনায় থানায় সাধারণ ডায়েরি করেছেন বলে জানান। টাঙ্গাইল সংবাদদাতা জানান, অবরোধের সমর্থনে টাঙ্গাইলের করটিয়ায় গতকাল বিােভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে ১৮ দলের নেতাকর্মীরা। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে করটিয়া জমিদার বাড়ি মসজিদের কাছ থেকে মিছিল বের হয়ে বিভিন্ন সড়ক ঘুরে শহীদ মিনারে গিয়ে শেষ হয়। সেখানে সংপ্তি সমাবেশে বক্তব্য রাখেন বিএনপি নেতা সৈয়দ আব্দুল মান্নান বাবুল, আব্দুল হামিদ তালুকদার, টাঙ্গাইল পৌর জামায়াত আমির আহসান হাবীব মাসুদ ও শিবির নেতা হাবীবুল্লাহ। জামালপুর সংবাদদাতা জানান, ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে দলীয় নেতাকর্মীদের কারাদণ্ড দেয়ার প্রতিবাদে জামালপুরে গতকাল রোববার অর্ধদিবস হরতাল পালন করেছে ১৮ দলীয় জোট। হরতাল চলাকালে বিভিন্ন স্থান থেকে শিবির ও ছাত্রদলের ১৫ জনকে আটক করেছে পুলিশ। এ দিকে জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি হারুনুর রশীদকে প্রধান করে ১৬২ জনের নামসহ জামায়াত-বিএনপির অজ্ঞাত তিন শতাধিক নেতাকর্মীকে আসামি করে মামলা করেছে পুলিশ। মানিকগঞ্জ সংবাদদাতা জানান, মানিকগঞ্জে বিােভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে জেলা বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা। এ সময় জেলা বিএনপির সহসভাপতি মাহাবুব হোসেন মহাব্বতের সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য রাখেন জেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক তোজাম্মেল হক তোজা, সাংগঠনিক সম্পাদক এস এ জিন্নাহ কবির, যুবদল নেতা গোলাম কিবরিয়া সাঈদ, আব্দুস সালাম, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক শরীফ ফেরদৌস, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আসলাম হোসেন সাদি প্রমুখ। ময়মনসিংহ অফিস জানায়, ১৮ দলের দ্বিতীয় দফায় টানা ৪৮ ঘণ্টা অবরোধ কর্মসূচির দ্বিতীয় দিনেও ময়মনসিংহের সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন ছিল। সকাল থেকেই বিএনপির শিল্পবিষয়ক সম্পাদক ও জেলা সভাপতি সাবেক জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী এ কে এম মোশাররফ হোসেন, সাধারণ সম্পাদক আবু ওয়াহাব আকন্দ, নগর সভাপতি অধ্যাপক এ কে এম শফিকুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক শেখ আমজাদ আলী, কোতোয়ালি থানা সভাপতি কামরুল ইসলাম ওয়ালিদ এবং শহর শাখার শিবিরের সেক্রেটারি হোসাইন মো: সজিবুর রহমানের নেতৃত্বে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক অবরোধ করা হয়। এ দিকে শহর বাইপাস সড়কের রহমতপুরে ময়মনসিংহ ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের সামনে জামায়াত-শিবিরকর্মীরা ময়মনসিংহ-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ এবং রাস্তায় অগ্নিসংযোগ করে। ফরিদপুর অফিস জানায়, সদরপুর যাওয়ার পথে কোতোয়ালি থানার হরিসভা এলাকায় একটি ট্রাকে আগুন লাগিয়ে দেয়া হয়েছে। এতে ট্রাকচালক মেহেদি হাসান (৩০) মারাত্মক অগ্নিদগ্ধ হয়েছে। ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে বার্ন ইউনিট না থাকায় তাকে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। শনিবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। রাত সাড়ে ৯টার দিকে আলিপুর কবরস্থান এলাকায় একটি ট্রাকে ইট ছুড়লে ট্রাকচালক ওমর আলী (৩৫) আহত হন। সুনামগঞ্জ সংবাদদাতা জানান, গাড়ি ভাঙচুর, পুলিশের সাথে মৃদু সংঘর্ষের মধ্য দিয়ে সুনামগঞ্জে অবরোধের দ্বিতীয় দিন পালিত হয়েছে। সকাল থেকেই শহরের ওয়েজখালী, লঞ্চঘাট, সিলেট-সুনামগঞ্জ রোডের দিরাই সড়কের মোড়সহ বিভিন্ন স্থানে অবস্থান নেয় ১৮ দলীয় জোটের নেতাকর্মীরা। দুপুরে অবরোধের সমর্থনে জেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক নুরুল ইসলাম নুরুল ও জেলা শিবির সভাপতি মো: দেলাওয়ার হোসেনের নেতৃত্বে ছাত্রঐক্যের একটি বিরাট মিছিল চলাকালে নেতাকর্মীরা বিজিবি ক্যাম্প, আমবাড়ি ও বীটগঞ্জ বাজারে প্রায় ১৫টি প্রাইভেট কার, সিএনজি, লেগুনা ও ট্রাক ভাঙচুর করে। সাতীরা সংবাদদাতা জানান, গতকাল অবরোধ কর্মসূচি দ্বিতীয় দিন সাতীরায় সর্বাত্মকভাবে পালিত হয়েছে। সকাল ৮টায় শহরের নাজমুল সড়কে আগুন ধরিয়ে শিবির অবরোধ কর্মসূচি পালন করে। শহরের বাকাল মোড়ে একটি বিআরটিসি বাসে আগুন দেয়া হয়। জেলার সব সড়ক বিছিন্ন রয়েছে। এ ছাড়া সকাল ৬টায় শহরের প্রধান প্রবেশপথ সাতীরা-যশোর সড়কের কদমতলা বাজার, সাতীরা-কালিগঞ্জ সড়কের আলিপুর চেকপোস্ট এবং সাতীরা- আশাশুনি সড়কের রামচন্দ্রপুর মোড় অবরোধ করে পিকেটিং করে জামায়াত-শিবির। সদরের আগরদড়ি ইউনিয়নের মল্লিক পাড়া সড়ক বিচ্ছিন্ন করে দেয় অবরোধ সমর্থকেরা। লালমনিরহাট সংবাদদাতা জানান, অবরোধের দ্বিতীয় দিন সর্বাত্মক অবরোধ পালিত হয়েছে। ছাত্রশিবিরের জেলা সভাপতি মো: সিরাজুল ইসলামের নেতৃত্বে মাজারে মহাসড়ক অবরোধ ও সদর থানায় সেলিম নগর থেকে বড়বাড়ির পর্যন্ত মিছিল করার পর বিএনপি, জামায়াত ও শিবিরের কর্মীরা রাস্তা অবরোধ করে রংপুর, কুড়িগ্রাম ও লালমনিরহাট রোডে সব ধরনের যানচলাচল বন্ধ করে দেয়। আদিতমারীতে শিবির সভাপতি জাহাঙ্গীরের নেতৃত্বে, তুষভাণ্ডার, পাটগ্রাম আদর্শ কলেজের সামনে শিবির নেতা মনিরুল ইসলামের নেতৃত্বে ও বুড়িমাড়ি স্থলবন্দরে শিবির সভাপতি মো: কামারুজ্জামানের নেতৃত্বে মিছিল পিকেটিং ও টায়ারে আগুন জ্বালিয়ে রাস্তা অবরোধ করে জামায়াত ও ছাত্রশিবির কর্মীরা। মাগুরা সংবাদদাতা জানান, অবরোধের দ্বিতীয় দিন মাগুরায় ট্রাকে অগ্নিসংযোগ,ককটেল বিস্ফোরণ ও ভাঙচুরের মধ্য দিয়ে পালিত হচ্ছে। শনিবার রাতে শহরের পারনান্দুয়ালী বাসটার্মিনালের কাছে একটি সবজিবাহী ট্রাকে ও ইটখোলা এলাকায় নসিমনে অগ্নিসংযোগ করে অবরোধকারীরা। শনিবার বিকেলে ফরিদপুরগামী পাটবোঝাই গাড়িতে অগ্নিসংযোগ করলে ফায়ার সার্ভিস আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। এ ছাড়াও জেলার ওয়াপদা মোড় ও সীমাখালী বাজারে অবরোধের সমর্থনে মিছিল করেছে ১৮। মৌলভীবাজার সংবাদদাতা জানান, গতকাল মৌলভীবাজারে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও নৌপথ অবরোধ এবং বিােভ মিছিল করেছে ১৮ দল। জেলার বিভিন্ন স্থানে গাড়ি ভাঙচুর ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সাথে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। শনিবার রাত ১২টায় কুলাউড়া জংশনের অদূরে রেললাইনে আগুন দিয়েছে ১৮ দলীয় নেতাকর্মীরা। এতে রেললাইনের দু’টি স্লিপার পুড়ে যায় বলে রেল কর্তৃপক্ষ জানায়। নোয়াখালী সংবাদদাতা জানান, অবরোধের দ্বিতীয় দিন গতকাল নোয়াখালী অচল হয়ে পড়ে। পিকেটাররা জেলার বিভিন্ন স্থানে রাস্তায় টায়ার জ্বালিয়ে ও গাছের গুঁড়ি ফেলে অবরোধ করে রাখে। রাস্তায় রিকশা পর্যন্ত চলাচল করেনি। সকালে মাইজদীতে ১৮ দলীয় জোট মিছিল শেষে নোয়াখালী প্রেস কাবের সামনে বক্তব্য রাখেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব মো: শাহজাহান, বিএনপির নেতা হারুনুর রশিদ আজাদ, আবু নাছের প্রমুখ। সকাল ১০টায় সোনাইমুড়ী উপজেলার জয়াগ বাজারে ১৮ দল মিছিল বের করে। এ সময় যুবলীগ কর্মীরা একটি মোটরসাইকেল নিয়ে আগ্নেয়াস্ত্র দিয়ে ধাওয়া করার চেষ্টা করলে অবরোধকারীরা দুই যুবলীগ কর্মীকে পিটিয়ে আহত করে ও মোটরসাইকেল পুড়িয়ে দেয়। মেহেরপুর সংবাদদাতা জানান, সড়ক অবরোধ ও গাড়ি ভাঙচুরের মধ্য দিয়ে মেহেরপুরে দ্বিতীয় দিনের অবরোধ কর্মসূচি পালিত হয়। সকাল থেকে মেহেরপুরের ছয়টি স্থানে সড়ক অবরোধ করে বিএনপি ও জামায়াত-শিবিরকর্মীরা। এ সময় গাংনী উপজেলার মেহেরপুর-কুষ্টিয়া সড়কের বামুন্দিতে পাঁচ-ছয়টি ট্রাক ভাঙচুর করে অবরোধকারীরা। একই দিন সকাল সাড়ে ৬টার দিকে মেহেরপুর-চুয়াডাঙ্গা সড়কের রাজনগর ব্রিজের সামনে সড়ক অবরোধ করে জামায়াত-শিবিরকর্মীরা। নীলফামারী সংবাদদাতা জানান, অবরোধের দ্বিতীয় দিন সকালে জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক জহুরুল আলম নেতৃত্বে নীলফামারীতে সাবেক সংসদ সদস্য আমজাদ হোসেন সরকারের নেতৃত্বে সৈয়দপুরে ও বিএনপি নেতা রাজ্জাকুল ইসলাম রাজার নেতৃত্বে কিশোরগঞ্জ উপজেলায় বিক্ষোভ মিছিল হয়েছে। এ ছাড়া বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির নির্বাহী সদস্য আলমগীর সরকারের নেতৃত্বে শহরে বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। এ দিকে সকাল থেকে জেলার বিভিন্ন সড়কে টায়ার জ্বালিয়ে ও গাছের গুঁড়ি ফেলে সড়ক অবরোধ করে ১৮ দলের নেতাকর্মীরা। দিনাজপুর সংবাদদাতা জানান, দিনাজপুরে সর্বাত্মক সকাল-সন্ধ্যা হরতাল ও অবরোধ পালিত হয়েছে। দিনাজপুরে আওয়ামী লীগের সন্ত্রাস ও লুটপাটের ঘটনার প্রতিবাদে দিনাজপুর জেলা ১৮ দলীয় জোট গতকাল রোববার সারা জেলায় হরতাল আহ্বান করে। সকালে জেলা বিএনপির সভাপতি লুৎফর রহমান মিন্টু, জেলা জামায়াতের ভারপ্রাপ্ত আমির অ্যাডভোকেট মাহবুবুর রহমান ভুট্টো ও জাগপা সভাপতি রকিব উদ্দীন চৌধুরী মুন্নার নেতৃত্বে বিােভ মিছিল বের হয়। বাগেরহাট সংবাদদাতা জানান, বাগেরহাটে রোববার সকালে ১৮ দলীয় জোটের নেতাকর্মীরা খানজাহান আলী দরগাহ মাজার মোড়ে খুলনা-বরিশাল মহাসড়ক অবরোধ করে। এ দিন ভোরে কাঁঠালতলা এলাকায় একটি মাইক্রোবাসে অগ্নিসংযোগ করে। শনিবার রাতে বাগেরহাটের মংলা উপজেলা আওয়ামী লীগের অফিসে অগ্নিসংযোগ করেছে অজ্ঞাত ব্যক্তিরা। এ দিন সকালে অবরোধকারীরা বাগেরহাট-খুলনা মহাসড়কের চেয়ারম্যানের মোড়ে আগুন দিয়ে, গাছের গুঁড়ি ফেলে ও মহাসড়কে অবস্থান নিয়ে অবরোধ করে। গাইবান্ধা সংবাদদাতা জানান, গতকাল গাইবান্ধায় অবরোধ চলাকালে জেলা ১৮ দলের উদ্যোগে জেলা শহরে বিােভ মিছিল বের করলে পুলিশ প্রেস কাবের মোড়ে মিছিলটি ছত্রভঙ্গ করতে ১৫ রাউন্ড টিয়ার শেল ও রাবার বুলেট নিপে করে এবং এ সময় মিছিল থেকেও পুলিশকে ল্য করে ইটপাটকেল নিপে করা হয়। এতে ডিবি পুলিশের তিন সদস্য এবং জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক গাওসুল আযম ডলার, রফিকুল ইসলাম লিপন, শামিউল ইসলাম শামীমসহ ১৮ দলের ২০ জন আহত হন। এ সময় পুলিশ জাসাস কর্মী শাহ আলমের ছেলে রিপনকে আটক করে। পিরোজপুর সংবাদদাতা জানান, অবরোধের দ্বিতীয় দিন গতকাল পিরোজপুর শহরে বেলা ১০টার দিকে যুবদল ও ছাত্রদল বাইপাস সড়কে বিােভ করে, টায়ার জ্বালিয়ে সড়ক অবরোধ করে। সকালে জোট কর্মীরা পিরোজপুর-নাজিরপুর সড়কের ভৈরমপুর এলাকায় ব্রিজের পাত উঠিয়ে অবরোধ করে। জেলা শহর থেকে রাজধানীসহ সব রুটে যাত্রীবাহী ও ভারী যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে। পঞ্চগড় সংবাদদাতা জানান, পঞ্চগড়ে দ্বিতীয় দিনের অবরোধ পালিত হয়েছে। শহর থেকে বাস, মিনিবাস,ট্রাক, টলি, দূরপাল্লার যানবাহন চলাচল করেনি। বিএনপি অফিসসহ গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন ছিল। এ দিকে অবরোধ থাকার কারণে বাংলাবান্ধা স্থলবন্দরে কোনো ট্রাক যেতে না পারায় মালামাল লোড আনলোড হয়নি। যশোর অফিস জানায়, গতকাল যশোর ছিল উত্তাল। শহরতলীর চাঁচড়া চেকপোস্ট, পুলেরহাট, রূপদিয়া বাজার, খাজুরা বাসস্ট্যান্ড মনিহার, নতুনহাটসহ বিভিন্ন উপজেলায় অবস্থান নেন ১৮ দলের নেতাকর্মীরা। অবরোধকারীদের মুহুর্মুহু সেøাগানে প্রকম্পিত হয় গোটা এলাকা। সব ধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধ ছিল। কর্মসূচিতে অংশ নেন জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাস্টার নুরুন্নবী, জাগপার সাধারণ সম্পাদক নিজাম উদ্দিন অমিত, সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি নুর-উন-নবী, নগর সাধারণ সম্পাদক মুনির আহম্মেদ সিদ্দিকী বাচ্চুসহ ছাত্রদল, যুবদল, মহিলাদল ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী। কুষ্টিয়া সংবাদদাতা জানান, অবরোধের দ্বিতীয় দিনে মিছিল সমাবেশ এবং মহাসড়ক অবরোধ করেছে ছাত্রশিবির কুষ্টিয়া শহর শাখা। কুষ্টিয়া শহর শিবিরের সভাপতি সোহেল রানার নেতৃত্বে গতকাল সকালে বিক্ষোভ মিছিল দবির মোল্লার গেটে সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়। জেলার সর্বত্র ভারী যানবাহন চলাচল বন্ধ ছিল। নারায়ণগঞ্জ সংবাদদাতা জানান, অবরোধ কর্মসূচির দ্বিতীয় দিন রোববার ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোড এবং সিদ্ধিরগঞ্জে দু’টি যাত্রীবাহী বাসে আগুন দিয়েছে অবরোধকারীরা। ওই সময় ভাঙচুর করা হয়েছে বেশ কয়েকটি যানবাহন। এ ছাড়া নগরীর আর কোথাও তেমন কোনো ঘটনা ঘটেনি। এ দিন ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ রুটে বিভিন্ন কাউন্টার সার্ভিস বাস চলাচল বন্ধ ছিল। ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক থাকলেও লঞ্চ চলাচল সীমিত ছিল। আশুলিয়া (ঢাকা) সংবাদদাতা জানান, অবরোধের দ্বিতীয় দিন সকালে আশুলিয়ার জামগড়া শিমুলতলা এলাকায় ইয়ারপুর ইউপি বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মাসুদুর রহমানের নেতৃত্বে বিক্ষোভ মিছিল হয়। এ সময় অবরোধকারীরা আবদুল্লাহপুর-বাইপাইল সড়কের জামগড়া শিমুলতলা এলাকায় পাঁচটি গণপরিবহনে ভাঙচুর ও একটি লেগুনায় আগুন দেয়। এ ব্যাপারে ঘটনাস্থল হতে স্থানীয় আওয়ামী লীগের সমর্থক ইব্রাহিম ফকিরসহ দুইজনকে আটক করে পুলিশ। পরে সরকার দলীয় পরিচয় নিশ্চিত হয়ে দুপুরে তাদের ছেড়ে দেয় বলে জানা যায়। রূপগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ) সংবাদদাতা জানান, রূপগঞ্জ উপজেলার কাঞ্চন পৌর এলাকায় যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-অর্থবিষয়ক সম্পাদক মুস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া দিপু ও নারায়ণগঞ্জ জেলা যুবদলের সভাপতি মোশারফ হোসেনের নেতৃত্বে গতকাল রোববার সকালে ও শনিবার রাতে বিােভ করে। পরে তারা কাঞ্চন ব্রিজ এলাকায় সড়কে আগুন জ্বালিয়ে রাস্তা অবরোধ করে চারটি গাড়িতে অগ্নিসংযোগ ও ১০-১২টি যানবাহন ভাঙচুর করে। পুলিশের ধাওয়ায় ২০ নেতাকর্মী আহত হন। আহতদের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। টঙ্গী সংবাদদাতা জানান, রোববার সকাল পৌনে ৮টায় টঙ্গী-কালীগঞ্জ সড়কের টঙ্গী থানার সামনে স্বেচ্ছাসেবক দলের মিছিল থেকে ১০-১৫টি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। এতে ওই এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এ দিকে গাজীপুরের কালিয়াকৈরে ১৮ দলীয় জোটের মিছিলে পুলিশি হামলা ও গুলিতে জেলা বিএনপির সেক্রেটারি কাজী সাইয়্যেদুল আলম বাবুলসহ ৩৮ জন গুলিবিদ্ধ ও অর্ধশতাধিক নেতাকর্মী আহত হওয়ার প্রতিবাদে কালিয়াকৈর উপজেলায় আজ সকাল-সন্ধ্যা হরতাল আহ্বান করা হয়েছে। কুমিল্লা সংবাদদাতা জানান, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলার শহীদনগরে পুলিশের সাথে বিএনপি ও জামায়াত-শিবিরের সংঘর্ষে ছয়জন আহত হয়েছেন। পুলিশ চারজনকে আটক করেছে। মনোহরগঞ্জে অবরোধকারীদের সাথে আওয়ামী লীগ কর্মীদের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় প্রায় পাঁচটি দোকান ভাঙচুর ও একটি মোটরসাইকেলে আগুন দেয়ার ঘটনা ঘটে। লাকসামে বিএনপির নেতৃত্বাধীন ১৮ দলীয় জোটের প্রধান শরিক জামায়াত-শিবির অবরোধ কর্মসূচি জোরালোভাবে পালন করছে। রোববার লাকসামে রেলপথ অবরোধ করে তারা। এতে একটি ট্রেন দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। ব্রাহ্মণবাড়িয়া সংবাদদাতা জানান, অবরোধ চলাকালে শনিবার রাতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কুমিল্লা-সিলেট মহাসড়কের ফুলবাড়িয়া বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অবরোধ সমর্থনকারীরা বেশ কয়েকটি যানবাহনে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাঙচুর করে। এ ছাড়া একটি বালুবাহী ট্রাকে আগুন ধরিয়ে দেয়। এতে তিনজন আহত হন। এ দিকে রাতে শহরের প্রধান সড়কে বিুব্ধ নেতাকর্মীরা শহরের টিএ রোডে সাতটি যানবাহন ভাঙচুর করে। গতকাল দুপুরে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের সরাইল উপজেলার বেড়তলায় টায়ারে আগুন দিয়ে মহাসড়ক অবরোধ করে অবরোধকারীরা। গতকাল নাসিরনগর উপজেলা বিএনপির উদ্যোগে বিােভ মিছিল ও অবরোধ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। গাইবান্ধা সংবাদদাতা জানান, গতকাল দুপুরে অবরোধের সমর্থকেরা মিছিল করে শহরের কাচারিবাজার এলাকায় পৌঁছলে পুলিশ বাধা দেয়। এ নিয়ে উভয়পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া শুরু হলে পুলিশ ১৯ রাউন্ড শটগানের গুলি ও তিন রাউন্ড কাঁদানে গ্যাস ছোড়ে। এতে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক গাওছুল আযমসহ অন্তত ২০ জন নেতাকর্মী আহত হন। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে একজনকে গ্রেফতার করে। অপর দিকে শনিবার রাত ১০টার দিকে গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা ১৮ দল ঢাকা-রংপুর মহাসড়কে ২০-২৫টি যানবাহন ভাঙচুর করে। এ দিকে আজ সোমবার গাইবান্ধা জেলায় সকাল-সন্ধ্যা হরতালের ডাক দিয়েছে ১৮ দলীয় জোট। নরসিংদী সংবাদদাতা জানান, পুলিশি বাধার কারণে গতকাল সকালে ঢাকা-সিলেট হাইওয়ের নরসিংদী জেলখানা মোড়ে ১৮ দলের উদ্যোগে অবরোধ কর্মসূচি পালন করা হয়। জেলা বিএনপির সভাপতি খায়রুল কবির খোকনের নেতৃত্বে অবরোধ কর্মসূচিতে অংশ নেন সদর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মনজুর এলাহী, বিএনপি নেতা দ্বীন মোহাম্মদ দীপু, আকবর হোসেন, শাহ জাহান মল্লিক, আমিনুল ইসলাম বাচ্চু, ফারুক উদ্দিন ভূইয়া, ছাত্রদল নেতা নজরুল ইসলাম ভূইয়া, আবদুর রউফ ফকিরসহ শত শত নেতাকর্মী। পুলিশ বিএনপির ব্যবহৃত একটি মাইক ভাঙচুর করে নিয়ে যায়। এ সময় হাইওয়েতে দূরপাল্লার যানবাহন চলাচল বন্ধ ছিল। পাবনা সংবাদদাতা জানান, অবরোধের দ্বিতীয় দিন পাবনার বিভিন্ন মহাসড়কে গাছ ফেলে অবরোধ করে রাখে ১৮ দলীয় জোটের নেতাকর্মীরা। সকাল থেকে পাবনা বাইপাসে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার হাবিবুর রহমান তোতার নেতৃত্বে একটি বিােভ মিছিল মহাসড়কে প্রদণি করে। মিছিল শেষে এক প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এ দিকে ঈশ্বরদী উপজেলায় ১৮ দলের বিােভ মিছিলে ট্রাকচাপায় মাহাবুল আলম (৪০) নামে নিহত যুবদল কর্মীর নামাজে জানাজা মীরকামারী হাইস্কুল মাঠে বেলা সাড়ে ১১টায় অনুষ্ঠিত হয়। ঈশ্বরদী উপজেলা বিএনপির সভাপতি শামছুদ্দীন আহম্মেদ মালিথা, জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি আবু তালেব মণ্ডল, ঈশ্বরদী উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা গোলাম রব্বানী খান জুবায়েরসহ ১৮ দলের বিপুল নেতাকর্মী অংশ নেন। ঝালকাঠি সংবাদদাতা জানান, অবরোধের দ্বিতীয় দিন রোববার দুপুরে ঝালকাঠির বিভিন্ন ইউনিয়নের তিনটি বিএনপি কার্যালয় ভাঙচুর করেছে যুবলীগের নেতাকর্মীরা। এ সময় যুবলীগ নেতাকর্মীদের সশস্ত্র হামলায় পাঁচ বিএনপি নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সদর উপজেলার শেখেরহাট ইউনিয়নের প্রধান কার্যালয় ও গুয়াটন বাজারের কার্যালয় এবং কেওড়া ইউনিয়নের সারেংগল কার্যালয়ে রোববার দুপুরে অতর্কিত হামলা চালিয়ে দরজা, জানালা, চেয়ার, টেবিলসহ কার্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ আসবাবপত্র ভাঙচুর করে স্থানীয় যুবলীগ নেতাকর্মীরা। আহতদের স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। ঝিনাইদহ সংবাদদাতা জানান, গতকাল সদর উপজেলার বিষখালী এলাকায় দুটি ট্রাক ভাঙচুর করে অবরোধকারীরা। সকালে বিভিন্ন স্থানে বিএনপি কর্মীরা রাস্তায় টায়ার জ্বালিয়ে অবরোধ করে। দুপুরে শহরের আরাপপুর এলাকায় বিএনপি বিােভ মিছিল করে। পুলিশের গুলিতে শিবিরকর্মী হত্যার প্রতিবাদে রোববার মহেশপুর ও কোটাচাঁদপুর উপজেলায় ১৮ দলের ডাকা সকাল-সন্ধ্যা হরতাল পালিত হয়েছে। ভোলা সংবাদদাতা জানান, অবরোধের দ্বিতীয় দিনে ভোলায় শান্তিপূর্ণভাবে পালিত হয়েছে। শহরের বিভিন্ন প্রবেশদ্বারে পিকেটিং করেছে বিএনপি এবং বিজেপি নেতাকর্মীরা। সকাল ১০টায় বিএনপি নেতাকর্মীরা বরিশাল-ভোলা-লক্ষ্মীপুর মহাসড়কের পরানগঞ্জ এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল করে। ভোলা-ইলিশা সড়কের পাইলট এলাকায় সড়ক অবরোধ করে বিজেপি কর্মীরা। বাসস্ট্যান্ডসহ ভোলার বিভিন্ন সড়কে অবরোধকারীদের বাধার কারণে সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। কক্সবাজার সংবাদদাতা জানান, কক্সবাজারের চকোরিয়ায় পুলিশের নির্যাতনে নিহত যুবদল নেতা আলীম ও আওয়ামী ক্যাডারদের গুলিতে বিএনপি কর্মী জাকের হোসেন হত্যার প্রতিবাদে গতকাল রোববার কক্সবাজার জেলায় সকাল-সন্ধ্যা হরতাল পালিত হয়েছে। সকালে অবরোধ ও হরতালের সমর্থনে জামায়াতের সমাবেশে পুলিশ গুলি চালিয়েছে। এতে আহত হয়েছেন পাঁচজন। শিবিরের এক নেতাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এ ছাড়া কক্সবাজার শহরের প্রধান সড়ক ও কক্সবাজার-চট্টগ্রাম মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে ইট দিয়ে এবং টায়ারে আগুন দিয়ে অবরোধ করেছে ১৮ দলের কর্মীরা। হরতালের সমর্থনে মিছিল-সমাবেশ করেছে যুবদল। হরতাল চলাকালে সবধরনের যানবাহন চলাচল ও ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকে। শহরের ফজল মার্কেট চত্বরে জামায়াতের সমাবেশে বক্তব্য রাখেন শহর সেক্রেটারি সাইদুল আলম সহসেক্রেটারি আবদুল্লাহ আল ফারুক ও শিবির নেতা মাহফুজ। সমাবেশ শেষে সড়ক অবরোধ করলে পুলিশ টিয়ার শেল ও গুলিবর্ষণ করে। শহরে বাজারঘাটা এলাকায় যুবদলের সমাবেশ বক্তব্য রাখেন যুবদলের জেলা সাধারণ সম্পাদক মোক্তার আহমদ, জেলা ছাত্রদল সভাপতি সৈয়দ আহমদ উজ্জ্বল, আমিনুল ইসলাম মুকুল প্রমুখ। ভালুকা (ময়মনসিংহ) সংবাদদাতা জানান, ভালুকায় অবরোধের দ্বিতীয় দিন গতকাল বেলা ১১টায় অবরোধকারী ও পুলিশের সাথে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ সময় পুলিশের গুলিতে উপজেলা বিএনপির সভাপতিসহ সাত নেতাকর্মী গুলিবিদ্ধ ও ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনায় মডেল থানার ওসিসহ অন্তত ৩৫ জন আহত হন। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে দুই বিএনপির কর্মীকে আটক করেছে। এসব ঘটনার প্রতিবাদে আজ সোমবার সকাল-সন্ধ্যা হরতাল ডেকেছে স্থানীয় বিএনপি। বেগমগঞ্জ (নোয়াখালী) সংবাদদাতা জানান, বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব বরকত উল্লাহ বুলুসহ বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলার প্রতিবাদে আজ সোমবার বেগমগঞ্জ উপজেলায় সকাল-সন্ধ্যা হরতাল আহবান করেছে স্থানীয় ১৮ দলীয় জোট। গতকাল রোববার উপজেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট আ: রহিম ও পৌর বিএনপির সভাপতি জহির উদ্দিন হারুন হরতালের বিষয় নিশ্চিত করেন। মনিরামপুর (যশোর) সংবাদদাতা জানান, শনিবার মনিরামপুরের চালকিডাঙ্গা বাজারে পুলিশ ও অবরোধকারীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় বিএনপি-জামায়াত-শিবিরের ১২ শতাধিক নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। মনিরামপুর থানার এসআই রমজান আলী বাদি হয়ে শনিবার রাতে মামলাটি করেন। উপজেলা জামায়াতের আমির অধ্যাপক ফজলুর রহমানকে প্রধান আসামি করে এ মামলায় বিএনপি-জামায়াতের ৫৪ জন এজাহারভুক্ত করা ছাড়াও অজ্ঞাত আরো ১২ শ’ ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে। এ দিকে গতকাল ভোজগাতী ইউনিয়নের গ্রামগুলোয় গ্রেফতার অভিযান চালানো হয়। সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত পুলিশ, বিজিবি ও র্যাবের সাড়ে পাঁচ শতাধিক সদস্য গ্রেফতারে বাড়ি বাড়ি তল্লাশি চালানো হয় বলে মনিরামপুর থানা ইনচার্জ (ওসি) মীর রেজাউল হোসেন জানিয়েছেন। এ সময় আটক করা হয় বিএনপি-জামায়াতের আট কর্মী। রামগঞ্জ (লক্ষ্মীপুর) সংবাদদাতা জানান, জেলার রামগঞ্জ উপজেলার ৮ নম্বর করপাড়া ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম আহবায়ক মনির হোসেনকে গুলি করে হত্যার প্রতিবাদে উপজেলা যুবদলের ডাকে গতকাল রোববার সকাল-সন্ধ্যা হরতাল পালিত হয়েছে। হরতাল সমর্থনে বেলা সাড়ে ১১টায় উপজেলা যুবদল-ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা রামগঞ্জ- হাজীগঞ্জ সড়কে গাছের গুঁড়ি ফেলে ও টায়ার জ্বালিয়ে অবরোধ করে রাখে। চারঘাট (রাজশাহী) সংবাদদাতা জানান, অবরোধের দ্বিতীয় দিনে অবরোধকারীরা রেললাইন উপড়ে ফেলায় রাজশাহীর চারঘাটে আন্তঃনগর ট্রেন ধূমকেতু এক্সপ্রেস লাইনচ্যুত হয়। সংশ্লিষ্ট সূত্র ও প্রত্যদর্শীরা জানান, শনিবার রাত ১টায় ধূমকেতু এক্সপ্রেস রাজশাহী থেকে ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে যায়। কিন্তু অবরোধকারীরা নাশকতার উদ্দেশ্যে সরদহ ও নন্দনগাছি স্টেশনের মাঝামাঝি বালুদিয়াড় নামক স্থানে রেললাইন উপড়ে ফেলায় রাত পৌনে ২টায় ট্রেনটি দুর্ঘটনায় পড়ে। ট্রেনটির ইঞ্জিনসহ পাঁচটি বগি লাইনচ্যুত হয়। এতে কমপে ১০ জন আহত হন। চরফ্যাসন (ভোলা) সংবাদদাতা জানান, অবরোধের দ্বিতীয় দিন গতকাল চরফ্যাসনে পাঁচটি টেম্পো ও লেগুনা ভাঙচুর করা হয়েছে। সূত্র জানায়, ভোর সাড়ে ৫টায় ছাত্রশিবিরের উদ্যোগে ওসমানগঞ্জের পাঙ্গাসিয়াসংলগ্ন সড়কে বিক্ষোভ মিছিল শেষে জনতা বাজার-মিয়ারহাট সড়কে ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরা দু’টি টেম্পো ভাঙচুর করে। অবরোধকারীদের হামলায় টেম্পোর চার যাত্রী আহত হয়েছে। ভোর ৬টায় স্বেচ্ছাসেবক দলের উদ্যোগে মাদরাসা বাজারসংলগ্ন সড়কে বিক্ষোভ মিছিল শেষে কর্তারহাট-লর্ডহার্ডিঞ্জ সড়কে অবরোধ সৃষ্টি করে। অবরোধকারীরা এ সময় ওই সড়কে চলাচলকারী তিনটি লেগুনা ভাঙচুর করে ও লেগুনাচালকসহ পাঁচ যাত্রীকে মারধর করে। সেনবাগ (নোয়াখালী) সংবাদদাতা জানান, অবরোধের দ্বিতীয় দিনে রোববার সেনবাগ উপজেলা পরিষদে হামলা চালিয়েছে অবরোধকারীরা। এতে চেয়ারম্যানের অফিস সহকারী মহিন উদ্দিন আহত হন। ১৮ দলের বিুব্ধ কর্মীরা সেনবাগ উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তার অফিসে তালা ঝুলিয়ে দেয়। ঘটনাস্থলে পুলিশ থাকলেও তাদের নীরব থাকতে দেখা গেছে, তবে চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যান কার্যালয়ে ছিলেন না। তাড়াশ (সিরাজগঞ্জ) সংবাদদাতা জানান, গতকাল সন্ধ্যায় তাড়াশ উপজেলা শহরের আওয়ামী লীগ ও বিএনপির পাল্টাপাল্টি মিছিলে উত্তেজনা থেকে উভয়পরে মধ্যে শুরু হওয়া সংঘর্ষে কমপে ২০ জন আহত হয়েছে। পুলিশ ২০ রাউন্ড রাবার বুলেট গুলিবর্ষণ করেছে। গতকাল এ রিপোর্ট লেখার সময় শহরে বিপ্তিভাবে সংঘর্ষ চলছিল। কুলাউড়া (মৌলভীবাজার) সংবাদাতা জানান, অবরোধ চলাকালে শনিবার রাতে সিলেট-ঢাকা রেলপথের কুলাউড়া ফুটবল খেলার মাঠের পূর্বপাশের রেললাইনে আগুন দেয়া হয়। পুলিশ খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে এসে আগুন নেভানোয় বড় ধরনের কোনো ঘটনা না ঘটলেও কয়েকটি কাঠের সিলপার পুড়ে যায়। বাগেরহাট ও মোরেলগঞ্জ সংবাদদাতা জানান, মোরেলগঞ্জে ককটেল বিস্ফোরণের সাথে জড়িত থাকায় শাকিল খান (২১) ও জসিম শিকদার (২২) নামে দুই ছাত্রলীগ ক্যাডারকে হাতেনাতে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছে স্থানীয় জনতা। ১৮ দলীয় জোটের অবরোধ কর্মসূচির প্রথম দিন শনিবার রাত ৯টায় এ ঘটনা ঘটে মোরেলগঞ্জের পাঁচগাঁও পুলিশ ফাঁড়ির কাছে। নাশকতা ও জনমনে ত্রাস সৃষ্টি করে বিরোধী রাজনৈতিক জোটের কাঁধে দায় চাপানোর উদ্দেশ্যে আওয়ামী লীগ নেতাদের ইন্ধনে ছাত্রলীগের ক্যাডারেরা এ ঘটনা ঘটায় বলে জানা গেছে।
Money Making Ideas in Bangladesh
12 years ago

0 comments:
Post a Comment