মনে প্রবল ইচ্ছা কিছু একটা করব, এমন একটা কিছু যা সবাই
চিনবে ও মনে রাখবে। তথাকথিত ধারায় পড়াশোনা শেষ করে সোনার হরিন চাকুরীর পিছনে ছোটা
অথবা চাকুরী না পেয়ে হতাশ জীবন যাপন তাই আগে থেকেই অনেকটা সতর্ক আমি। সেই সূত্র
ধরেই কিছু একটা করার আকাঙ্ক্ষা । জানি না তা কি তবে যাই করিনা কেন সফল হতেই হবে এ
রকম প্রবল ইচ্ছা মনে পোষণ করি সবসময়।
অনেক আগে থেকেই কিছু না কিছু করেই চলছি কিন্তু স্থায়ী
হতে পারিনি কোনটাতেই। এরই মধ্যে ভর্তি হই ভার্সিটিতে ইলেকট্রিক্যাল এন্ড
ইলেকট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং-এ। একটু একটু করে বুঝতে শুরু করি ইলেকট্রনিক্স বিষয়টা। এই
সেক্টরেই কিছু একটা করব এই ভূত মাথায় চাপল কিন্তু সমস্যা ছিল একটাই, টাকা। ব্যবসা
করার মত প্রাথমিক মূলধন আমার ছিল না। আর বাসা থেকেও এই সময়ে ব্যবসা করার জন্য টাকা
পাওয়ার সম্ভাবনা নাই। তারপরেও কয়েকবার চেয়েছিলাম কিন্তু তাদের একটাই কথা আগে পড়াশোনা
শেষ কর তারপর দেখা যাবে কি করা যায়। তাদের কথায় মনকে স্থির করার চেষ্টা করেছি কয়েকবার, কিন্তু মনতো আর স্থির হয় না। এর মধ্যে
শুরু হল নতুন সমস্যা, ভার্সিটিতে যা হয় আরকি! গার্লফ্রেন্ড এর প্রেশার, আমাকে নাকি
কিছু একটা করতে হবে। আমার বাবা মার মতে আমার তো বিয়ের বয়স হয় নাই কিন্তু তার বাবা
মার মতে তার তো বিয়ের বয়স পার হয়ে যাচ্ছে।
মহাবিপদ, এখন তো দেখি কিছু একটা করা ফরয এর মত হয়ে গেছে। কি করব মাথা কাজ
করে না, অন্য দিকে সময় কেটে যাচ্ছে দ্রুত গতিতে। যাই হউক কিছু না পেয়ে সেমিস্টারের
কিছু টাকা মারিং কাটিং করে দোস্তদের কথায় শুরু করলাম শেয়ার বিজনেস, কপাল আমার ৪
মাস পর থেকেই ধস নেমে গেল, এখনও আমার সেই শেয়ার বিক্রয় করা হয় নাই। ভাবছিলাম শেয়ার
বিজনেস করে কিছু টাকা জমিয়ে ব্যবসা শুরু করব তা আর হলনা। তারপর আবার শুরু করলাম
টিউশনি, চলছে কিন্তু কোন উন্নতি নাই, আসলে টিউশনি করে শুধু পকেট খরচ চালানো সম্ভব।
কিছুতেই কিছু হচ্ছিল না এই দিকে আবার গার্লফ্রেন্ড এর চাপ। লাইফটা পুরা সিনেমা
হইয়া গেল। এর মধ্যে আবার জড়িয়ে পরলাম এম এল এম বিজনেস এর সাথে , মাস কয়েক ভালই
চললাম, এইবার বুঝি কিছু একটা হইল। কিন্তু কিছুই আর হইল না। এম এল এম ভাগল আর আমি পড়ে রইলাম আগের যায়গায়।
ফিরে এলাম পুরোনো পেশায় টিউশনি আর এর সাথে নতুন করে শুরু করি টিউশন মিডিয়ার
বিজনেস, এই বিজনেস এ অবশ্য তেমন ইনভেষ্ট লাগে না কিন্তু ঠিকমত করতে পারলে মাসে
কিছু টাকা আয় করা সম্ভব। কিন্তু এটাও বেশি দূর টানতে পারলাম না। আসলে একা কোন
বিজনেস করা সম্ভব না। আর যা করতেছি এইগুলা কি কোন বিজনেস এর তালিকায় পরে ? একদিকে
গার্লফ্রেন্ড এর চাপ অন্য দিকে পড়াশোনা। সবকিছু তালগোল পাকিয়ে যাচ্ছিল।
অনেকটা হতাশ হওয়ার মত করে কাটতে থাকে আমার দিনগুলি।
ভার্সিটিতে যাই, ক্লাস করি, বাসায় ফিরে আসি কোন কিছুই ঠিক মত হচ্ছিল না। মনোযোগ
দিতে পারছিলাম না কোন কাজেই। রাতে আমার ঘুম কম হত সারা রাত বসে থাকতাম কম্পিউটার
এর সামনে উদ্দেশ্যেহীন ভাবে। এরই মধ্যে ঠিক কি ভাবে যেন আমি “চাকরি খুজব না চাকরি দিব” গ্রুপে এড হই, এখনও মনে করতে পারি না।
একদিন একটা পোষ্ট পরে এই গ্রুপে ঢুকলাম, আমার ভালো লাগলো,
সবগুলা পোষ্ট পড়লাম,পড়ে খুব সাহস পেলাম, অনেক উৎসাহ পেলাম। এর মধ্যে কয়েক দিন কেটে
গেল নিয়মিত হতে লাগলাম এই গ্রুপে। অনেকদিন ফলো করার পর একদিন ভাবলাম আমি একটা
পোষ্ট দিয়ে দেখি কোন সাহায্য পাই কিনা। পোষ্ট টা ছিল এইরকম-
‘আমি বিজনেস করতে চাই কম ইনভেষ্ট এর মধ্যে কেউ কি আমাকে পার্টনার
হিসেবে নিতে পারেন?
অনেক প্রস্তাব পেলাম কিন্তু সেই গুলো ছিল আমার ইনভেস্ট
করার ক্ষমতার চাইতে বড়। অনেকটা নিরাশ হলাম। এরই মধ্যে ঠিক আমার পোষ্ট এর নিচে
আরেকজন এর পোষ্ট পেলাম। সেও ইনভেস্ট এর জন্য বিজনেস করতে পারছে না। নাম নিয়াজ মোর্শেদ,
যোগাযোগ করলাম তার সাথে। আইডিয়া শেয়ার করলাম, ভালো লাগল। আমরা প্রথম মিটিং কল
করলাম। ভ্যানূ ঠিক হল কমলাপুর রেলষ্টেশনের ৩ নং প্লাটফরম এর শেষ মাথায়।
অনেক বিষয় নিয়ে আলোচনা করলাম আমরা। কথা বলে ভাল লাগল।
অধিকাংশ বিষয়ে মতের ক্ষেত্রে দুই জনের মতামতই মিলে গেল। ব্যবসা করা যায় এক সাথে। নিয়াজ
ভাই তেমন ইনভেষ্ট করতে পারবেন না আর আমার কাছেও তেমন টাকা-পয়সা নাই। এর মধ্যে আমি
ওনাকে প্রস্তাব দিলাম আমার টিউশন মিডিয়ার বিজনেস থেকে কিছু টাকা আয় করে সেই টাকা
দিয়ে আমরা ছোট করে আমাদের ইলেকট্রনিক্স সেক্টরে বিজনেসটা শুরু করতে পারি। প্রথমে
আমরা শুরু করব মিনি আইপিএস দিয়ে কারন এটাতে ইনভেষ্ট কম লাগবে, তারপর আস্তে আস্তে
এগুবো। উনি আমার প্রস্তাবে রাজি হলেন।
আমি ওনাকে শুধু বললাম ভাই আজকে যেই স্পিড নিয়ে যাচ্ছেন
এই স্পিডটা শুধু ধরে রাখেন, “ইনশাআল্লাহ” আমরা কিছু করতে পারব বাকিটা আল্লাহর ইচ্ছা। ওনি বলল ঠিক আছে আমি আপাতত প্রোডাকশন দেখব আর আপনি বাকি
কাজ দেখেন। আমি ওনাকে বললাম তাহলে প্রথমে একটা সেম্পল রেডি করা যাক আর এর মধ্যে
আমরা টাকার ব্যবস্থা করি, ৭ দিন পর আমাদের সেম্পল রেডি হয়ে গেল। তারপর হিসাব করে দেখলাম
অন্তত ১০,০০০ টাকা হলে আপাতত অল্প করে শুরু করা যাবে। কিন্তু টাকা পাব কোথায় ?
অবস্থাটা এমনই ছিল এই মুহূর্তে কারো পক্ষেই এই টাকা জোগাড় করা সম্ভব না। আমাদের একটা
প্লাস পয়েন্ট ছিল যে আমাদের ফ্যাক্টরির জন্য যে যায়গা দরকার সেইটা আপাতত নিয়াজের
বাড়ী যাত্রাবাড়ীতে করা সম্ভব। আমার কাছে সব কিছু পজেটিভ মনে হচ্ছিল, আর আমার মাথায়
যে প্লান আছে সে আনুসারে এগোলে আমরা অবশ্যই কিছু করতে পারব। কিন্তু টাকা তো হাতে নাই। গার্লফ্রেন্ড এর কাছ থেকে ১০,০০০ টাকা ধার নিলাম। এখন
কাঁচামাল সংগ্রহ করার পালা। এই সেক্টরে আমার চাইতে নিয়াজ ভাই এর বাস্তব অভিজ্ঞতা
অনেক বেশি ছিল। উনি কোথায় কি পাওয়া যায়, সম্পূর্ণ প্রোডাক্ট করতে কি কি লাগে সব ব্যাপারে
হেল্প করেছেন। কাঁচামাল সংগ্রহ করলাম। হিসেব
করে দেখলাম মার্কেট এ মিনি আইপিএস যে দামে আছে আমরা তার চেয়ে অনেক কম রেটে ভাল
জিনিস দিতে পারব। আমরা সিদ্ধান্ত নিলাম প্রথমে প্রফিটের কথা ভাবব না শুধু পরিচিতি
দরকার। আমি নিয়াজ ভাইকে বললাম এখন যেহেতু আমরা মাত্র ২ জন লোক আর স্টাফ রাখার মত
টাকাও আমাদের নাই তাই আপনি প্রোডাকশন দেখেন আর আমি মার্কেট দেখি।
শুরু করলাম আমি আমার মার্কেটিং। অনলাইনে কিছু এড দিলাম
সেই সাথে আমি “চাকরি খুজব না চাকরি দিব” গ্রুপে একটা পোষ্ট দিলাম “ কিছুদিনের
মধ্যেই মার্কেট এ আসছে কম রেটে ভাল মানের মিনি আইপিএস” সেখানে
কিছু রেসপন্স পেলাম যা কখনও আশা করিনি। প্রায় ১৫-২০ টি জেলা শহর থেকে আইপিএস এর
সেম্পল সরবরাহ করার জন্য অনুরোধ পেলাম। এতে করে আমরা আরো উৎসাহী হয়ে উঠি, ৪-৫
দিনের মধ্যে কিছু সেম্পল রেডি করে পাঠিয়ে দিলাম কয়েকটি জেলায়। কিন্তু অভিজ্ঞতা না
থাকার কারনে যা হবার তাই হল, আমাদের বেশ কিছু সেম্পল ঠিক মত প্যাকিং না করার কারনে
কুরিয়ার করার সময় নষ্ট হয়ে যায়। আর যারা সেম্পল পেল তারা বেশ কিছু দিন আমাদের সাথে
কোন রকম যোগাযোগ করেন নাই। এর মধ্যে ঢাকায় পরিচিত কয়েকজন বন্ধুর সাথে এই বিষয়টা
নিয়ে আলোচনা করি এবং তাদের দিয়ে কিছু আইপিএস পুশ সেল করাই আবার কাউকে ফ্রি ব্যবহার
করতে দিলাম চ্যালেঞ্জ অফার হিসাবে। ১৫ থেকে ২০ দিন পর চট্রগ্রাম থেকে ফোন আসে ১০০
পিছ মিনি আইপিএস লাগবে। আমাদের আইপিএস এবং এর সার্ভিস তাদের পছন্দ হয়েছে। তাই
তাদের আরো ১০০ পিছ সেম্পল লাগবে। এর ঠিক একদিন পরে চট্রগ্রামের আরেক জায়গা থেকে
ফোন আসে আরও ৩০ পিস আইপিএস এর জন্য। পরলাম মহা সমস্যায় আমরা মানুষ মাত্র দুই জন এর
মধ্যে নিয়াজ ভাই আবার জব করেন। সময় খুব অল্প তারপরে আবার টাকার সমস্যা কি করব
বুঝতে পারছিলাম না। আমি নিয়াজ ভাইয়ের সাথে আলাপ করলাম কি করা যায়, প্রাথমিক রেসপন্স তো ভালই কিন্তু এই অর্ডার
সম্পূর্ণ করতে টাকা তো লাগবে অনেক। আমি এবার আমার রুমমেটদের কাছ থেকে অনেক বুঝিয়ে ২০,০০০ টাকা ধার নিলাম। আমার বড় ভাই
সিঙ্গাপুর থাকে,অনেক বলে তার কাছ থেকেও ২৫,০০০ টাকা নিলাম।এখন ২ জনে মিলে প্রডাকশন শুরু করলাম, সাথে নিলাম আমার
ছোট ভাই ও তার বন্ধু এবং নিয়াজ ভাই এর ছোট ভাইকে। নিয়াজ ভাই এর ছোট ভাই আমাদের
প্রাথমিক অবস্থায় অনেক সহযোগিতা করেছে উনি আমাদের জন্য অনেক রাত জেগে পরিশ্রম করেছেন।
সময়মত চাহিদা অনুযায়ী আমরা উৎপাদন করতে পারলাম না ১৩০ পিছ থেকে অর্ডার নেমে আসল ৮০
পিছ এ। মোটামুটি একটা ধাক্কা খেলাম। কমিটম্যান্ট নষ্ট হওয়ার মত অবস্থা। অনেক কষ্ট
করে তখনের ধাক্কা সামাল দিলাম। এর মধ্যে
আরও কয়েকটি জেলার সাথে আমরা কাজ করা শুরু করে দেই। প্রাথমিক অবস্থায় আমাদের মার্কেট চাহিদা পূরুন
এবং একটি সম্পূর্ণ প্রোডাক্টকে আকর্ষণীয় করে বিক্রয়যোগ্য করে তুলতে যে টাকা প্রয়োজন
ছিল তা জোগাড় করতে পারিনি। প্রথমে অনেককেই বলেছি সহযোগিতা করার জন্য এমনকি
পার্টনার হওয়ার জন্যেও, কিন্তু কেউ পাত্তা দেয় নাই বরং উল্টো আরো তুছ্য করে দেখেছে
বিষয়টাকে। আমাদের জ্যাদ এবং কিছু একটা করার প্রত্যয় থেকে যখন এটাকে খুব কম সময় এর
মধ্যেই আমরা মোটামুটি একটা পজিশনে এনে দাড় করাই তখন অনেকেই অফার করে পার্টনারশীপ
এর জন্য। সব কিছু মিলিয়ে চিন্তা ভাবনা করে দেখি তাদের আমাদের সাথে নেয়ার মত না। কিন্তু ওই মুহূর্তে আবার আমাদের টাকারও
দরকার ছিল। এর মধ্যে কিছু অর্ডার অর্থ ও জনবল শঙ্কটের কারনে বাদ দিতে হয়েছে। সব
মিলিয়ে একটা বাজে অবস্থার মধ্যে পরে যাই। নিয়াজ ভাই এর জব নিয়েও তখন টানাটানি
চলছিল। ওই মুহূর্তে আমার এক দাদা মোঃ সেলিম রেজা, উনার সাথে আমাদের পারিবারিক সম্পর্ক
উনি আমেরিকা ফেরত, খুবিই ভাল মানুষ। সব কিছু শুনে আমাদের সাথে কাজ করার আগ্রহ
প্রকাশ করেন। আমি নিয়াজ ভাইয়ের সাথে আলোচনা করি। আমারা দ্বিধাদ্বন্ধে পরে যাই।
অর্থনৈতিক দিক থেকে দাদা অনেক স্বছল, ঢাকায় দুইটা বাড়ী। উনার তো টাকার দরকার নাই, উনি
কেন আমাদের সাথে এই ব্যবসা করবেন। এধরনের অনেক প্রশ্ন মাথায় ঘুরপাক খেতে থাকে। অপর
দিকে কাষ্টমার এর সাথে সব কমিটম্যান্ট ও রক্ষা করতে পারছিলাম না। অবশেষে সিদ্ধান্ত
নিলাম দাদাকে আমাদের সাথে নেব। উনি উনার পরিচিত আরো দুই জন সহ আমরা মোট পাঁচ জন
একসাথে হলাম। এর মধ্যে একজন থাকেন সুইজারল্যান্ড, উনি আমাদের অর্থনৈতিক সাপোর্ট
দিবেন এবং আরেকজন ব্যবসা করেন চায়না এর সাথে ইনি আমাদের চায়না মাল আমদানি করতে
সহযোগিতা করবেন।
আমরা আমাদের যাত্রাবাড়ীর ফ্যাক্টরি পরিবর্তন করে
সবুজবাগে নিয়ে আসলাম। আর হেড অফিস করলাম দাদার উত্তরার বাড়ীতে। কিছু দিনের মধ্যেই
সেখানে ডেকোরেশনের কাজ শুরু হবে। রংপুরে ৫/৯/২০১৩ তারিখ থেকে আমাদের প্রথম শো-রুম
চালু হয়েছে। চট্রগ্রাম, বরিশাল এবং ধামরাইতে আমাদের শো-রুমের কাজ চলছে।
বর্তমানে আমরা পাঁচ ওয়াট থেকে ৫০০০ ওয়াট পর্যন্ত আইপিএস,
৬৫০ ভিএ থেকে ১০,০০০ ভিএ পর্যন্ত স্ট্যাবিলাইজার এবং ৩ ওয়াট থেকে ২৫০০ ওয়াট
পর্যন্ত সোলার হোম সিস্টেম করে থাকি। চট্রগ্রাম, চাঁদপুর, রংপুর ও ধামরাইতে আমাদের
প্রোডাক্ট এর চাহিদা ভালো। আমরা এখনও চাহিদার তুলনায় আমাদের প্রোডাকশন ক্যাপাসিটির
দুর্বলতা কাটিয়ে উঠতে পারি নাই। কয়েক জনকে প্রশিক্ষন দিচ্ছি আশা করছি অল্প
কিছুদিনের মধ্যেই তাদেরকে নিয়ে আমাদের প্রোডাকশন ক্যাপাসিটি বাড়াতে পারব।
শূন্য থেকে পথ চলা শুরু করে বর্তমানে পাঁচ মাস পর এখন
কোম্পানীতে মোট ইনভেস্ট এর পরিমান ৬,০০০০০/- টাকা এবং ১ বছরের মাথায় তা ২০,০০০০/-
টাকায় নিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় নিয়ে কাজ করে যাচ্ছি । আমাদের এক্সপোর্ট ইমপোর্ট লাইসেন্স এর কাজ চলছে, আশা করছি অল্প কিছুদিনের
মধ্যে আমরা নিজেরাই কাচা মাল ইমপোর্ট করতে পারব। অল্প কিছু দিনের মধ্যে অনেক
ইনোভ্যাটিভ প্রোডাক্ট আমরা মার্কেটে নিয়ে আসতে পারবো বলে আশা করছি, বর্তমানে হোম
অটোমেশন সিস্টেম, টাচ সুইচ ও স্ট্যাবিলাইজার আপগ্রেডেশন নিয়ে কাজ করছি।
সত্যি কথা বলতে স্বপ্ন দেখছিলাম কিন্তু কোন দিন ভাবি নাই
স্বপ্নকে বাস্তবে রুপ দিতে পারব। আসলে ইচ্ছা আর একাগ্রতা থাকলে সব কিছুই সম্ভব।
ছোট বেলায় পড়েছি “পরিশ্রম সৌভাগ্যের প্রসূতি” তাই পরিশ্রম
করে যাচ্ছি মনের মধ্যে আছে প্রবল ইচ্ছা
তাই সফল হবই। আমাদের “জেনন ইলেকট্রনিক্স বিডি” কোন একদিন একনামে সারা বাংলাদেশের মানুষ চিনবে
ইনশাআল্লাহ। শুধু আইপিএস, ইউপিএস ও
স্ট্যাবিলাইজার নয় খুব অল্প সময়ের মধ্যে আরও অনেক প্রোডাক্ট আমরা নিয়ে আসতে
পারব বলে আশাবাদী।
অবশেষে “জেনন
ইলেকট্রনিক্স বিডি” এর পক্ষ থেকে ধন্যবাদ জানাবো এই গ্রুপের এডমিন
ও যারা এই গ্রুপটাকে তৈরি করেছেন তাদের সকলকে। জানিনা কতটা সফল হতে পেরেছি, যতটুকু
পেরেছি তাতে এই গ্রুপের পরোক্ষ অবদান রয়েছে।
হয়ত কোন একদিন
আমি কিছু করতাম, কিন্তু এই গ্রুপ- এই কোন একদিনকে
বর্তমানে নিয়ে এসেছে এবং সেই সাথে এটাও চিরন্তন সত্য যে- “পথে নামলেই পথকে চেনা যায়” ।
******* সবাই
আমাদের জন্য দোয়া করবেন। *******

0 comments:
Post a Comment